Cinque Terre
116718921 3804576156226322 4544698331306197341 O

মসজিদে নববী

৬২২ সালে মসজিদে নববী প্রতিষ্ঠিত হয়। হিজরতের কয়েক দিনের মাথায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) মদিনার (তৎকালিন নাম ইয়াসরিব) নাজ্জার গোত্রের সাহল ও সোহাইল ভ্রাতৃদ্বয়ের কাছ থেকে এক খন্ড জমি কেনেন। বসবাসের জন্য জমির কিছু অংশ রেখে বাকী অংশে মসজিদ নির্মান করেন। মসজিদের আয়তন ছিল ১০০ বর্গহাত বা ৫৬ বর্গফুট। এটির নির্মান শেষ করতে সাত মাস সময় লাগে। নির্মান কাজে খেজুরগাছ, খেজুরপাতা, কাচা ইট ও কাদা ব্যবহার করা হয়।

গুরুত্বের দিক থেকে মসজিদুল হারামের পরেই মসজিদে নববীর স্থান। এখানে এক রাকাত নামাজ আদায় করলে ৫০ হাজার রাকাত নামাজের সওয়াব পাওয়া যায়। এই মসজিদ ছিল তৎকালিন মুসলিমদের সম্মিলনস্থল, সামরিক প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনা কেন্দ্র, আদালত ও শিক্ষা কেন্দ্র। রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর পর খোলাফায়ে রাশেদার যুগ পর্যন্ত মসজিদে নববীই ছিল ইসলঅমী খিলাফতের প্রাণকেন্দ্র। হজরত মুয়াবিয়া (রাঃ) পরবর্তীতে মুসলিম জাহানের রাজধানী সিরিয়ার দামেস্কে সরিয়ে নিলে মসজিদে নববীর গুরুত্ব কমতে থাকে।

মুসলিম শাসকদের হাতে বিভিন্ন সময় এই মসজিদ সম্প্রসারিত হয়েছে। প্রথম খলিফা আবু বকর (রাঃ) ও দ্বিতীয় খলিফা ওমর (রাঃ) মসজিদটির সংষ্কার ও সম্প্রসারণ করলেও তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান (রাঃ) মসজিদটি নতুন করে নির্মান করেন। এই কাজে দশ মাস সময় লাগে। দরজার সংখ্যা ও নামকরণ অপরিবর্তিত রাখা হয়। পাথরের দেয়াল নির্মিত হয় এবং খেজুর গাছের খুটির বদলে লোহা দ্বারা সংযুক্ত পাথরের খুটি যুক্ত করা হয়। ছাদ নির্মানের জন্য সেগুন কাঠ ব্যবহার করা হয়। সম্প্রসারণের ফলে এক সময় মহানবীর (সাঃ) বাড়িসহ তাঁর এবং দুজন খোলাফায়ে রাশেদীন হজরত আবু বকর (রাঃ) ও হজরত উমর (রাঃ)-এর সমাধি মসজিদের অংশ হয়ে যায়।

মহানবীর (সাঃ) সমাধী মসজিদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। এর উপরে ১৮১৭ সালে সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ শাহ একটি গম্বুজ নির্মাণ করেন। ১৮৩৭ সালে গম্বুজে সবুজ রং করা হয় এবং এর পর থেকে এর নাম সবুজ গম্বুজ হয়। মহানবীর (সাঃ) কবরের পাশে আরেকটি কবরের জায়গা ফাঁকা আছে। বলা হয় ঈসা (আঃ) পৃথিবীতে এসে মৃত্যু বরণ করলে তাঁকে এখানে কবর দেয়া হবে। ১৯০৯ সালে আরব উপদ্বীপের মধ্যে এখানেই সর্ব প্রথম বৈদ্যুতিক বাতি জ¦ালানো হয়।

মসজিদে নববীর উল্লেখযোগ্য অংশ হচ্ছে ‘রিয়াজুল জান্নাত’ বা বেহেশতের বাগান। এটি মহানবীর (সাঃ) হাতে নির্মিত মিম্বার শরীফের পাশের জায়গা। এটি সাদা কার্পেটে চিহ্নিত করা। এখানে নামাজ পড়ার বিশেষ ফজিলত আছে। এটিকে জান্নাতের অংশ হিসেবে পরিগণিত করা হয়।

রিয়াজুল জান্নাতের সন্নিকটে রয়েছে ‘বাব-এ-জিবরিল’ যেখান দিয়ে হজরত জিবরাইল (আঃ) ওহি নিয়ে নবীজীর (সাঃ) কাছে আসতেন। বাব-এ-জিবরিল থেকে সামান্য দুরে রয়েছে ‘জান্নাতুল বাকি’ যেখানে হজরত ফাতেমা (রাঃ) ও হজরত উসমান (রাঃ)সহ অসংখ্য সাহাবায়ে কিরামের কবর রয়েছে। মসজিদে নববীতে এক সাথে প্রায় সাত লাখ মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারেন। অনিন্দ্য সুন্দর কারুকার্যময় এই মসজিদের বাইরের মূল আকর্ষণ বড় বড় ইলেক্ট্রিক ছাতা যা নামাজের সময় মেলানো হয়।

মোঃ ইয়ারুল ইসলাম
০১/০৮/২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *