Cinque Terre
80567579 3229053320445278 9090756610829058048 O

ধর্মীয় মূল্যবোধ সংরক্ষণ করুন

ধর্মীয় রীতিনীতি যতদুর সম্ভব মেনে চলুন এবং অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন। ধর্মীয় উৎসবগুলোতে বেশী বেশী অংশ গ্রহণ করুন। এতে পারষ্পারিক সম্প্রীতি বাড়ে ও নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি হয়। পৃথিবীতে অসংখ্য ধর্মের অস্তিত্বের পেছনে স্রষ্টার হাত রয়েছে। বৈচিত্রময় জগতের এও এক অপার রহস্য। এক রঙে কোন সুন্দর ছবি হয় না। জগতে রয়েছে অসংখ্য রঙ, অসংখ্য ভাষা; সেইরূপ অসংখ্য ধর্ম ও মত, অসংখ্য জাতি। সব কিছুকে স্রষ্টা টিকিয়ে রাখেন, ভালবাসেন। স্রষ্টা চাইলেই তো সবাইকে একটি ধর্ম বা মতের অনুসারী করে দিতে পারেন, কিন্তু তিনি করেন না। কেননা সেখানে সৌন্দর্য নেই। তাহলে আমাদের কেন অন্য ধর্মের, মতের বা জাতির মানুষের প্রতি বৈরিতা থাকবে বা জোর করে নিজের ধর্মে দীক্ষিত করতে হবে ?

ধর্মীয় বিভাজন ধর্ম চর্চার ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হলেও এটা অনিবার্য। যুগে যুগে এই বিভাজন কমানোর বহু চেষ্টা করা হয়েছে। প্রত্যেকে তার নিজের ধর্ম ও বিশ্বাসকে সঠিক এবং অন্যদেরকে বিভ্রান্ত বলে মনে করে। এ নিয়ে সংঘাতও অনেক হয়েছে, তবে কোন সমাধান হয়নি। যার ধর্ম সে ধরে রেখেছে। যারা ধর্মান্তরিত হয়েছে তারা নিজেদের ইচ্ছায়। অতএব ধর্ম চর্চার বিষয়টি যার যার ওপর ছেড়ে দিয়ে বিভাজনকে মেনে নিয়ে আমাদের চলতে হবে। ধর্মীয় দাওয়াত দেয়ায় কোন বাধা নেই, তবে তা হতে হবে শান্তিপূর্ণভাবে।

ধর্মীয় মূল্যবোধকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন সময়ে অনেক মত-পথের জন্ম হয়েছে, কিন্তু সেসব ক্ষেত্রে পারিবারিক বা সামাজিক শান্তি আসেনি। যুগে যুগে যে ধর্মীয় সংঘাত হয়েছে তা কেবল ধর্মীয় সংকির্ণতাবাদের কারণে, ধর্ম সেখানে দায়ী নয়। যা দায়ী সেটা হচ্ছে অপধর্ম। ধর্ম সব সময় কল্যাণের কথা বলে। অন্য ধর্মের প্রতি বৈরিতার শিক্ষা কোন ধর্মে নেই। বরং সহনশীলতা ও সহমর্মীতাই প্রত্যেক ধর্মের লক্ষ্য। ধর্মের বাণী ও আবেদন না বুঝে অপধর্মের চর্চা সব সময় হয়। সেসব ক্ষেত্রে কিছু ভন্ড বক ধার্মিক সরলমনা ধর্মপ্রাণ মানুষদের প্ররোচনা দেয়। আত্মস্বার্থ হাসিলকারী সেই সব লোকদের কারণে ধর্মগুলো কখনও কখনও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ধর্মগুলো সব সময় মানব কল্যাণ চায় এবং নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টিতে ধর্মের চেয়ে শক্তিশালী তত্ত্ব আর নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *