Cinque Terre
7

হরতাল কি গণতান্ত্রিক অধিকার 

আমাদের সংবিধানের ৩৬ নং অনুচ্ছেদে সর্বত্র অবাধে চলাচলের অধিকার দেয়া হয়েছে। এই সাংবিধানিক অধিকার হরতালের মাধ্যমে হরণ করা হয়। হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার হবে শুধু কর্ম বিরতি অর্থে, অর্থাৎ কোন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ঘর হতে বের হতে না চাইলে বা কাজ করতে না চাইলে সেখানে তাকে বাধ্য করা যাবে না। এটা একজন ব্যক্তির নিজস্ব সিদ্ধান্তের ব্যাপার। কিন্তু হরতালের মাধ্যমে অন্য ব্যক্তির চলাচলে বাধা প্রদান করা বা তার আয়-রোজগারের পথ বন্ধ করা মানে তার সাংবিধানিক অধিকার লংঘন করা।

সুতরাং বাংলাদেশে প্রচলিত হরতাল কোন প্রকারেই গণতান্ত্রিক অধিকার নয়। বরং অনৈতিক, অসাংবিধানিক এবং দেশ ও জনগণের জন্যে মারাত্মক ক্ষতিকর। কোন হরতালই কল্যাণ বয়ে আনে না, এমনকি যারা হরতাল করে তাদের দাবীও কোন দিন হরতাল দিয়ে পুরণ হয় না। এখানে জনসেবার নামে জনগণকে কষ্ট দেয়া হয়। সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বা সরকারের কাছ থেকে দাবী আদায়ের জন্যে যে হরতাল দেয়া হয় তাতে নিরিহ জনগণের জান-মালের ক্ষতি করা হয়। এমনকি হরতালের আগের দিনে হঠাৎ সাধারণ জনগণের গাড়ীতে বা দোকানে ভাংচুর বা অগ্নিসংযোগ করা হয়। যাদের ক্ষতি করা হচ্ছে তারা উক্ত ক্ষোভ ও দাবী আদায়ের সাথে কতটুকু সম্পৃক্ত ?

রাজনীতি হবে দেশ ও জনগণের কল্যাণের জন্যে। সেখানে যদি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো দেশ ও জনগণের অকল্যাণ করে তাহলে সেই রাজনৈতিক দর্শন কতটুকু গ্রহনযোগ্য ? উন্নত দেশগুলোতে হরতাল হয় না। তারা বিকল্প উপায়ে আন্দোলন করে। তাদের রাজনৈতিক সং®কৃতি থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে।

কৃতিত্বপূর্ণ কাজ ও আচরণের মাধ্যমে সরকারী বা অন্য দলের চাইতে নিজেদের দলের শ্রেষ্ঠত্ব জনগণের কাছে প্রমান করতে হবে। দেশ ও জনগণের ক্ষতি করে বা অনৈতিকভাবে নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি অর্জন করে জনগণের মন জয় করা যায় না। রাজনীতি করার লক্ষ্য হবে জনগণের আস্থা অর্জন করা। জনগণ যদি বিশ্বাস করে কোন দল বা ব্যক্তি দেশ সেবার উপযুক্ত তবে তারা অবশ্যই উক্ত দল বা ব্যক্তিকে গ্রহন করবে।

মোঃ ইয়ারুল ইসলাম
মহাসচিব, বাংলাদেশ কংগ্রেস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *